ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় জমে উঠেছে বেচাবিক্রি

ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত ‘গরুগ্রাম’

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ০১:৪৯:১৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ০১:৪৯:১৪ অপরাহ্ন
ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত ‘গরুগ্রাম’ ছবি : সংগৃহীত
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের গরুর বাজার। বছরের অন্য সময় সাধারণ গ্রাম হলেও ঈদ এলেই এলাকাটি পরিচিতি পায় ‘গরুগ্রাম’ নামে। গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এখন চলছে কোরবানির গরু লালন-পালন ও বিক্রির ব্যস্ততা।

প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসছেন এই গ্রামে। পছন্দের গরু কিনে কেউ সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ ঈদের আগের দিন কিংবা ঈদের সকাল পর্যন্ত খামারেই রেখে যাচ্ছেন। ক্রেতাদের জন্য গরুর খাবার ও দেখভালের দায়িত্বও নিচ্ছেন খামারিরা। এমন বিশেষ সুবিধার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে এই গ্রামকে ঘিরে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষিকাজের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় কয়েক বছর ধরে গরু পালন শুরু করেন গ্রামের বাসিন্দারা। ধীরে ধীরে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গড়ে ওঠে ছোট-বড় খামার। বর্তমানে এই গ্রামে ১৫-২০টি থেকে শুরু করে ৪০টির বেশি গরুও রয়েছে অনেকের খামারে।

খামারি আলমগীর হোসেন বলেন, আমাদের গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই এখন গরু পালন করেন। সারা বছর লালন-পালন করে ঈদের সময় গরু বিক্রি করি। এবার গরুর চাহিদাও ভালো। অনেক ক্রেতা আগেই এসে গরু পছন্দ করে রেখে যাচ্ছেন। ঈদের আগ পর্যন্ত আমরা গরুর খাবার ও দেখভালের দায়িত্ব নিচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় সব বাড়িতেই গরু রয়েছে। কোরবানির সময় সব গরুই বিক্রি হয়ে যায়। এখানে ভালো গরু সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায় বলে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। কেউ গরু কিনে ঠকে না।

আরেক বাসিন্দা মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ধান চাষ হওয়ায় গরুর খাবারের সংকট হয় না। মাঠের ঘাস ও বিচালি দিয়েই বেশিরভাগ গরু পালন করা হয়। অনেকেই ঘেরের ভেড়িতে আলাদা করে ঘাস চাষ করেন।

আট বছর ধরে গরু পালন করছেন খামারি মোহাম্মদ আবদুর রহমান। তিনি বলেন, “গরুর চাহিদা অনেক বেশি। আমার খামারে ছয়টি গরু ছিল, প্রতিটির দাম এক লাখ টাকার ওপরে। আরও গরু থাকলেও বিক্রি হয়ে যেত।

গরু কিনতে সাতক্ষীরা শহর থেকে আসা ক্রেতা মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, গত বছরও এখান থেকে গরু কিনেছিলাম। বাজারের তুলনায় এখানে কম দামে ভালো গরু পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ঈদের দিন পর্যন্ত খামারেই গরু রেখে যাওয়ার সুযোগ আছে। খামারিরা খাবারের ব্যবস্থাও করেন।

এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

দপ্তরের তথ্যমতে, সাতক্ষীরার ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল এবং ৬ হাজারের বেশি ভেড়া। সব মিলিয়ে এবার জেলায় কোরবানির পশুর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৮ হাজার বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ. এম. মান্নান কবীর বলেন, উদ্বৃত্ত পশু থাকলেও কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ২ থেকে ৩ শতাংশ বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত গরুর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় জেলার প্রাণিসম্পদ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ